শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
ভারতের একতরফা ও অবিবেচনাপ্রসূত পানি ব্যবস্থাপনার কারণে আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। তিস্তা, যমুনা ও দুধকুমারে ভয়াবহ ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো মানুষ। নদীভাঙন ঠেকাতে নেই কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ বা কার্যকর পরিকল্পনা।
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, উজানের ঢল ও ভারতের অব্যবস্থাপিত পানি ছাড়ায় তিস্তা নদীতে হঠাৎ জোয়ারে বিপৎসীমার ওপরে পানি ওঠে। এতে গঙ্গাচড়ার বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার পানিতে ডুবে যায়। এক রাতের মধ্যে পানি নামলেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও তীব্র ভাঙন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধ। প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পড়ায় ঝুঁকিতে সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট সড়ক, যেখান দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভারতের উত্তরবঙ্গের জলাধার থেকে অনুমতি ছাড়াই বিপুল পানি ছাড়ায় নিম্নপ্রবাহে ঢল নামে। তিস্তার দুই তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ২০ হেক্টর আমন ধান, এক হেক্টর মাষকলাই, দুই হেক্টর বাদাম ও আধা হেক্টর সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে।’ ক্ষতির সঠিক চিত্র এখনো নির্ধারণ চলছে।
স্থানীয় শিক্ষক মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর এমন দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে আমাদের।’ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা শাহ মো. ওবায়দুল রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন। ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, পানি কমছে, দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ইতোমধ্যে ২০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ টাকা ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি— “ত্রাণ নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই চাই।”
কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদে টানা বৃষ্টি ও ভারতীয় ঢলে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। মুহূর্তেই গ্রাম হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন। ইউএনও মো. ইসমাইল হোসেন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন, যদিও পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ তিস্তা ভাঙন। পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, ডুবে গেছে উঠতি ফসল ও বসতি। কাপাসিয়া ইউনিয়নে ২০টি বাড়ি নদীতে বিলীন, ৫০টি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০০টি বাড়ি ভাঙনের হুমকিতে। নৌকা ছাড়া যোগাযোগ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রতিবছর এমন ভয়াবহতা ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি— নদীখনন, ড্রেজিং ও স্থায়ী বাঁধ ছাড়া সমাধান অসম্ভব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, আপাতত জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে, স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তে।